জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আসামিদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে। এর আগে গত ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। পরে ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে সেদিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
এর আগে গত ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তবে পরে প্রসিকিউশন অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক বক্তব্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলী বলেন, আমাদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে আন্দোলন ‘যেকোনোভাবে’ দমন করার। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউশন ওই বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেয়। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রত্যক্ষ প্রভাবেই কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়।
প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট বলে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের যে বৈঠকে মন্তব্য করেছিলেন, সেখানে উপস্থিত থেকে ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানানো; ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও এ বিষয়ে ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া; এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। হানিফ ছাড়া অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনায় হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। একই বছরের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়।


