দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে দেশের গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করায় এখন মূল কাজ বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ‘অন্তত রুটিন ওয়ার্কও যদি আমরা করে যেতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে উন্নয়ন সম্ভব হবে। অন্যথায় পদে পদে বাধাগ্রস্ত হতে হবে। তাই সবাই মিলে সহযোগীতা করে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাটাই এ মুহুর্তে খুব জরুরী।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের প্রয়োজনে মানুষের জন্য নতুনভাবে এটিকে গড়ে তুলতে হবে। গত ১৭ বছরের বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। আমি-আপনি আন্দোলন করে সরকার গঠন করেছি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিলো না। আজকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নতুনভাবে শুরু করেছি। এই যাত্রা অনেক দূর নিয়ে যেতে হবে।’ শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ আয়োজন করা হয়। এ সময় ২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই টার্গেট পয়েন্টে পৌঁছাতে হবে। সেজন্য যে যেখানে থাকি না কেন, আমাদের দায়িত্ব হল সর্বাত্মক সহযোগীতার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ঠিক রেখে সামনের দিনগুলো পার করা। দলমত নির্বিশেষে চেষ্টা করবো দেশের গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করে রাখি। তাহলে অন্তত রুটিন ওয়ার্কও যদি আমরা করে যেতে পারি বাংলাদেশে উন্নয়ন সম্ভব। ১৭-১৮ বছর বাংলাদেশে ভালো ইতিহাস ছিলো না। আমরা একেকজন একেকভাবে ওই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। আজকে একটা আমাদের স্বাভাবিক জীবন এসেছে। এই স্বাভাবিক জীবন পাবো, গত তিন বছর আগেও আমরা এটা চিন্তা করিনি, কিন্তু আমরা পেয়েছি| এই স্বাভাবিক জীবনটাই হল আমাদের ধরে রাখা। ধরে রাখতে গেলে এতোদিন রাজনৈতিক যুদ্ধ করেছি, এখন আমাদেরকে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে আমরা যেভাবে কাজ শুরু করেছি, এতোটুকু বলতে পারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মহতি উদ্যোগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন। উনার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্ব-নির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। খালেদা জিয়াকে কাছের থেকে আপনারা দেখেছেন, তার নেতৃত্ব, তার সংগ্রামী জীবন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন, সবশেষ আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন। একই পরিবারের একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, একজন জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন, আরেকজন এখন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে আজ দেশ পরিচালিত হচ্ছে।’
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একেকজন একেক ইস্যুতে কথা বলি। পার্লামেন্টে আমরা সুন্দর আলোচনাও করি। কিন্তু বাহিরে গিয়ে সেই আলোচনা আমরা অনেক সময় ধরে রাখতে পারি না। আবার আমরা একটু রেগে যাই, আমরা আবার অন্য কর্মসূচিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেটা অনেক সময় দেশের জন্য ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। সেজন্য সবদিক থেকে চিন্তা করে আমাদেরকে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ ছাইফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন প্রমুখ।


