পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের ঘটনায় সাত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে দুই বছর ও ছয়জনকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শিক্ষার্থীকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান খান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের সময় মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় নয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. নাজমুস সাকিব। এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত ছয় শিক্ষার্থী হলেন একই বিভাগের জাহিদ হোসেন সরকার, মিসকাত জাহান মুসফিক, ইউনুস হোসেন হিরাত, সাইদুর রহমান সিফাত ও সানোয়ার হোসেন তানিম এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইসতিয়াক আহমেদ ইফতি।
জরিমানা করা হয়েছে ফার্মেসি বিভাগের তামান্না তাজমিম তন্নী ও সোহানুর রহমান সিফাতকে। তন্নীকে ১০ হাজার টাকা এবং সিফাতকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়াতে সংবাদ দেখলাম। কিন্তু এখনো আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র আসেনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহা. শামীমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদেবার্তায় তিনি সভায় থাকার কথা জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নবীনদের ডেকে নিয়ে র্যাগিং করেন। একপর্যায়ে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন তুহিন। রাত আটটার দিকে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


