দুর্গাপূজা ঘিরে সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ফোর্সেস। পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তায় প্রতিদিন ৬ হাজারের বেশি সদস্য টহল দিচ্ছেন।
এ কাজে ৫৫০টির বেশি পিকআপ ও ৪৫০টি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, ড্রোন ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
রোববার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি জানান, গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদারে দুর্গাপূজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এসআরবি মহাপরিচালক বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৫টি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিদিন ৬ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও স্থানে ডগ স্কোয়াড এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সদস্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এসআরবি। সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সারা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দুর্গাপূজা ঘিরে নাশকতা বা উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও সাইবার নজরদারিসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত এ ধরনের হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নাশকতার পরিকল্পনা মোকাবিলায় এসআরবি প্রস্তুত রয়েছে।
ভার্চ্যুয়াল জগতে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং টিম কাজ করছে বলে জানান তিনি। গুজব ছড়িয়ে উসকানি দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পূজামণ্ডপে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এসআরবি মহাপরিচালক। প্রতিমা বিসর্জনের দিন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআরবি মহাপরিচালক জানান, এ বছর দেশে ৩২ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। তবে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, তুলনামূলক কমসংখ্যক পূজামণ্ডপে সমন্বিতভাবে পূজার আয়োজন করা গেলে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা আরও জোরালো হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
বক্তব্যের শেষে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটি, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব নাগরিককে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান মো. আহসান হাবীব পলাশ।


