নিখোঁজের ছয় দিন পর চার তরুণীকে উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা পুলিশ। নিখোঁজ দুই জোড়া কিশোরী নিজেদের মধ্যে সমকামিতার মাধ্যমে ‘বিয়ে’ করে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে তাদের উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন তরুণী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর তাদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার এক কিশোরীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানায় পুলিশ। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরে চার কিশোরী একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন তরুণী বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জের তরুণীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চার তরুণী ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে দুই তরুণী নিজেদের মধ্যে ‘বিয়ে’ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে বলে পুলিশকে জানায়। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। অপর দুই তরুণীও একই বাসায় অবস্থান করছিল।
এদিকে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাকিলাদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন।
পরে গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া চারজনের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে তরুণীদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নিখোঁজ তিন তরুণীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একজনকেও উদ্ধার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


