দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেয়।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার অন্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা যাচাই, ডিজিটাল আলামত উদ্ধার, তাদের পরিচালিত ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটের সন্ধান এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে দুই আসামিকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ বৈঠকে অংশগ্রহণ করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন চক্রান্তে যুক্ত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের দাবি জানিয়ে বলেন, আসামিরা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের যোগসাজশ রয়েছে। পরিকল্পনা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত জানতে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।
অন্যদিকে রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, দেবাশীষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হলেও রিমান্ড আবেদনে সুনির্দিষ্ট অপরাধের কোনো উল্লেখ নেই।
আরেক আইনজীবী মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, গুলশান আরার বিরুদ্ধে টক শোতে বক্তব্য দিয়ে দেশ অস্থিতিশীল করার কথা বলা হলেও কী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বা কী তথ্য পাওয়া গেছে—তার কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের সদস্যরা এই দুই সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেন।
ডিবি পুলিশের এক পরিদর্শক বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা, তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরিতে জড়িত।
এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।


