নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে আলটিমেটাম দিয়ে বিভাগে তালা

নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে আলটিমেটাম দিয়ে বিভাগে তালা
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় একাডেমিক হয়রানি ও শিক্ষকদের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন তার সহপাঠীরা।

এ ঘটনায় বিভাগের সভাপতি ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগসহ আট দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ১২ ঘণ্টার মধ্যে মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করার দাবিতে বিভাগের ফটকে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় থেকে ফিরে বিভাগের ফটকগুলোতে তালা দেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২ ঘণ্টার মধ্যে মোহাইমিনুলের সন্ধান নিশ্চিত করা, তার নিখোঁজের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ শামের পদত্যাগ, সংশ্লিষ্ট কোর্সের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যাচকে হয়রানি ও লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ করা।

এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে অবস্থান নিশ্চিত করা, বিভাগে দ্রুত ছাত্র সংসদ কার্যকর করা এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

নিখোঁজ মোহাইমিনুল ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। সহপাঠীদের ভাষ্য, বিশেষ পরীক্ষা আয়োজনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে ছিলেন তিনি।

প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করার পরও পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হলে আসন্ন মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এতে তার শিক্ষাজীবনের একটি বছর পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে দাবি সহপাঠীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন মোহাইমিনুল। পরে হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়, যেটিকে প্রশাসন সুইসাইড নোট হিসেবে উল্লেখ করেছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে লেখা ছিল, ‘ছয় মাস নাটক করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাকে।’ এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিরকুটে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মোহাইমিনুলের পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad