কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তের জন্য আটক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে হস্তান্তর করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঁচ মাসের পরিচয়ের সূত্র ধরে তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এর আগে, রোববার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার লালওয়া রিসোর্টের সামনে থেকে রাজুকে আটক করে পুলিশ। তিনি বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার মনির আহমেদের ছেলে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান তাজমিন। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠান। এরপর কক্সবাজারে আসেন ওই কিশোরী। ৬ অক্টোবর কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে রাজুর সঙ্গে এক রাত অবস্থানের পর পরদিন তাকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।
কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে নেমে বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তাজমিন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ার ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।’
তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে আসা, রাজুর সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের আগের ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে হত্যাকাণ্ডে রাজুর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।


