ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়ের পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং বেআইনি আটক বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনাকে আন্দোলনের পক্ষে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বিরোধীরা। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলন আরও জোরদার করতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতারা সোমবার দিল্লিতে সমবেত হচ্ছেন।
আন্দোলন ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সকাল থেকে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ছয়টি মেট্রোস্টেশনে যাত্রী উঠা-নামা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরইমধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান তেজস্বী যাদব এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের সকালের মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বেঙ্গালুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘মোদি ২০২৩ সালে এমন একটি আইন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাদের এমন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা ভারতের রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধান বিচারপতিও ভোগ করেন না। কিন্তু একজন নির্বাচন কমিশনারকে কেন এমন বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হলো?’
খাড়গে অভিযোগ করেন, ‘এই সুরক্ষা দেওয়ার পরই ভোট চুরি, ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রে কারসাজি ও নির্বাচনী জালিয়াতির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যত ভুলই করুন না কেন, এসব কাজের জন্য জবাবদিহি থেকে তাকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার সরাসরি কেড়ে নেওয়া এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার ষড়যন্ত্র। ঠিক সেটিই এখন ঘটছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
ইন্ডিয়া জোটের নেতারা এরইমধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্মারকলিপিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের যে আইনের মাধ্যমে অবসরের পরও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হবে।
স্মারকলিপিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বাছাইপ্রক্রিয়া থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রেরিত ডাক ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে কথিত ভোট চুরির অভিযোগ উত্থাপন করা হবে। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রামাণ্য নথিও উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী জোটের।
এদিকে কংগ্রেস দলটির লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সদস্যকে দিল্লিতে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। দলের নেতা রাহুল গান্ধী গোয়া সফরের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ও অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
গত ৬ অক্টোবর সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আটক করা হলে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এর পর থেকে জোটটি ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দুপুরে বৈঠকের পর মধ্য দিল্লিতে বিক্ষোভ এবং রাজঘাটে অবস্থান কর্মসূচিও রয়েছে।
বিরোধী জোটের নেতারা জানান, শনিবার ও রোববার দিল্লিতে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং সাত হাজারের বেশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
তাদের দাবি, শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা প্রায় তিন হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
বিরোধী জোটের নেতারা বলেছেন, এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে তারা রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াইও চালিয়ে যাবেন।


