জাতীয় পতাকা মিছিল: তেলাপোকা নেতা অভিজিৎ ও নেহা আটক

জাতীয় পতাকা মিছিল: তেলাপোকা নেতা অভিজিৎ ও নেহা আটক
দিল্লির নিজ বাড়ি থেকে আটক অভিজিৎ দীপকে। ছবি: এনডিটিভি
Advertisement
Advertisement

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ বা ‘জাতীয় পতাকা ওড়াও’ নামে একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, আটকের সময় দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে বলে, ‘আপনি নয়াদিল্লিতে যেতে পারবেন না। আমরা আপনাকে আটক করছি।’

জবাবে ককরোচ নেতা বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে যেতে পারব না, কিন্তু অন্য কোথাও তো যেতে পারি। আমি কোন আইন ভেঙেছি?’

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি পালনের চেষ্টা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের অভিযানে শুক্রবারও বেশ কয়েকজন পরিচিত অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৯ বছর বয়সী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। তাকে যন্তর মন্তরের কাছে থেকে আটক করা হয়।

শুক্রবারের মিছিল আয়োজনের অন্যতম কারণ ছিল ককরোচ জনতা পার্টির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তার। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত দুজনকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।

এর আগের দিন, ১২ অক্টোবর, ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন অভিজিৎ দীপকে। এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে কারসাজির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লি এসেছিলেন তিনি। মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই বিমানের ভেতর থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে শুক্রবার দুপুরে পুলিশের উপস্থিতির একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, কাঁধে ছোট একটি জাতীয় পতাকা জড়িয়ে সোফায় বসে আছেন তিনি। তার সামনে বসে আছেন একজন পুলিশ সদস্য।

ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকে পুলিশ সদস্যকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা আমার বিরুদ্ধে এ কেমন অভিযোগ এনেছেন?’

সামনের টেবিলে বেশ কিছু কাগজপত্র রাখা ছিল। সেগুলো পরীক্ষা করতে করতে নোটিশের বিভিন্ন অংশ পড়ে শোনান অভিজিৎ। একই সঙ্গে পুলিশের কাছে অভিযোগের ব্যাখ্যা চান।

ওই নোটিশের একটি অংশে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ক্রমাগত উসকানি দিয়েছেন, যা বেআইনি।

এ অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আপনারা এসব কী তামাশা শুরু করেছেন? এটা কেমন নোটিশ? একে কি নোটিশ বলে? আপনাদের মনে যা আসছে, তা-ই লিখে যাচ্ছেন! তাহলে আমাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিন। এসব কী তামাশা হচ্ছে?’

একই সঙ্গে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে অন্তত একটি ভিডিও দেখানোর জন্য পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।

অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আপনারা এমন একটি ভিডিওও দেখাতে পারবেন না।’

জবাবে দিল্লি পুলিশ তাকে জানায়, ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানো বেআইনি নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল বের করা কিংবা জনসমাগম ঘটানো বিদ্যমান বিধিনিষেধের লঙ্ঘন হবে। সে ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে ভারতের পতাকাবিধিতে থাকা নিয়মকানুন সম্পর্কেও তাকে জানানো হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad