ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শনিবার বিক্ষোভ ঘিরে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জিসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাকে আটক করে পুলিশ।
নয়াদিল্লিজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীদের আটক করা হচ্ছে। বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএমের নেতাদেরও আটক করা হয়। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়সহ দলের নেতাদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ হয়। খবরে বলা হয়, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও সুজন চক্রবর্তীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে দিল্লির রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে প্রশাসন। সিজেপির বিক্ষোভে সিপিএমের নেতা, বামপন্থী সংগঠন ও ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) কর্মীরা যোগ দেন। বেআইনি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সকাল থেকেই তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতা বৃন্দা কারাতকেও আটক করে দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভের আগে সিপিএমের জ্যেষ্ঠ নেতা বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সৃজন ভট্টাচার্যসহ অন্য বাম নেতারা দিল্লিতে পৌঁছান। শনিবার সুজন চক্রবর্তী ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কিছু দূর যাওয়ার পরই পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরে সুজন চক্রবর্তী ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়সহ এসএফআইয়ের কয়েকজন কর্মী ও বামপন্থী কর্মীদের আটক করা হয়।
প্রাথমিক খবরে বলা হয়, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে দিল্লির একটি স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছে। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ প্রায় ৪০০ বামপন্থী কর্মীকে আটক করেছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দলের নেতারা যাতে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যালয় ঘিরে রেখেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ ও মোদি সরকারের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন সিপিএমের জ্যেষ্ঠ নেতা বিমান বসু। তিনি বলেন, পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করা যাবে না। হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বরং বিক্ষোভকারীদের আরও ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করবে।


