আইফোনের লোভেই কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনের দেওয়া তথ্যে এসব কথা জানায় পুলিশ।
শনিবার সকালে কুমিল্লায় পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে ওই শিক্ষার্থী। তার গন্তব্য ছিল নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসা। কিন্তু চালক সুমন তাকে শহরের দিকে না নিয়ে অন্য পথে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, সেখানে মেয়েটি পালানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ঘটনাস্থলের পাশে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
এদিকে, চলন্ত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানায় ওই শিক্ষার্থী। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সেই বার্তা দেখতে পাননি।
বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে সিএনজিচালক সুমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর শুক্রবার চট্টগ্রামে ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ আরও জানায়, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করেও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
নিহত শিক্ষার্থী যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।


