রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে রাশিয়ার মস্কোয় বৈঠক করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।
শুক্রবার মস্কোয় উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় রোসাটম। বৈঠকে আগামী বছর থেকে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করবে।
এ সময় রোসাটমের মহাপরিচালক জানান, আগামী বছর থেকে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পথে প্রকল্পটির পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি খাতের আরও সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়।


