‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বৈধতা দিতে সাজানো হতো তদন্তের নাটক’

‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বৈধতা দিতে সাজানো হতো তদন্তের নাটক’
Advertisement
Advertisement

কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড জনসম্মুখে এলে আইনি বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্তের নাটক সাজানো হতো। সেই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীরা যেন আড়ালেই থেকে যান, সেজন্য নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্ত ব্যবহার করা হতো। এমন দাবি করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রফিকুর ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ করে। জবানবন্দির পরবর্তী অংশ রোববার গ্রহণ করা হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল বলেন, নিয়ন্ত্রিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে কর্মকর্তাদের মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত এবং পুলিশ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বাধ্য করা হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করা।

শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের ১৫তম ও সর্বশেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়।

আরও পড়ুন

জবানবন্দিতে রফিকুল ইসলাম মামলার তদন্তের পদ্ধতি, যাদের জবানবন্দি নিয়েছেন, তদন্তে যেসব স্থানে গিয়েছেন এবং যেসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন, সেসবের বিবরণ দেন।

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসান কীভাবে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ হয়ে ওঠেন, তার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। র‍্যাব কর্মকর্তারা কীভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ন, সে বিষয়েও সাক্ষীরা বর্ণনা দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল, এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। গত ১৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে ১০৪ জনকে হত্যার অভিযোগে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জিয়াউল আহসান র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন। তার নির্দেশ ও অনুমোদনে র‍্যাবের সদস্যরা এসব অপরাধ সংঘটিত করেন বলেও অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশন সূত্রের দাবি, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে র‍্যাবে পদায়নের পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরে যেতে হয়নি। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, প্রয়োজনীয় কোর্স ও প্রশিক্ষণ এবং কোনো ব্যাটালিয়ন বা ব্রিগেড কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই জিয়াউল আহসান মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। সেনাবাহিনীর পেশাদার ইতিহাসে এমন পদোন্নতি নজিরবিহীন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad