নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি হওয়া ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরার খোঁজ না পেয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকায় ফিরেছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। ঘটনার পর একদিন পেরোলেও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত তার চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে, আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ পুলিশ কর্মকর্তারাও তার জিনিসপত্র উদ্ধারে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
বুধবার বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে বাংলাবান্দা ট্রেনে আসার সময় ক্রিলের সঙ্গে নাটোর পর্যন্ত আসে হলুদ কটি পরিহিত প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। পথে চোর নিজেকে রেলওয়ে কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়। পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ক্রিল ভুল করে নাটোর স্টেশনে নামলে সেই যুবকও তার সঙ্গে নেমে পড়ে এবং ওয়েটিং রুমে তার সঙ্গে একই গন্তব্যে যাওয়ার কথা বলে অপেক্ষা করতে থাকে। এরপর ক্রিল ল্যান্ডার তার প্রতি সরল বিশ্বাসে ল্যাপটপ, ক্যামেরাসহ ব্যাগ ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যান। ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ফিরে এসে তাকে আর খুঁজে পাননি ক্রিল।
এরপর বুধবার রাতে থানা পুলিশের সহযোগিতায় নাটোর রেল স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে চোরকে চিহ্নিত করতে পারে পুলিশ।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় হলুদ কটি পরিহিত যুবক ক্রিলের সঙ্গে স্টেশনে চলাফেরা করছে। কিছুক্ষণ পর ক্রিল বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে তার ব্যাগ নিয়ে চোর ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে পড়েন।
ক্রিল ল্যান্ডার জানান, পরে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। তার ব্যাগে ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ছিল।
হেরিটেজ সাইট নিয়ে কাজ করতে এবারই প্রথম বাংলাদেশে এসেছেন ক্রিল। পাসপোর্ট ও মুঠোফোন তার কাছেই রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত আছে।’
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ক্রিল। এরপর এসব জিনিসপত্র উদ্ধারে কাজ শুরু করে পুলিশ। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ল্যাপটপটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানান ক্রিল ল্যান্ডার। তিনি বলেন, ‘আশা করি, আমি আমার জিনিসপত্র খুঁজে পাব।’
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান হিসেবে রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় সংকেত পাওয়া যায়। পরে বুধবার রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে আসেন। তখন ল্যাপটপটির অবস্থান হিসেবে মহিলা কলেজের আশপাশের এলাকার সংকেত পাওয়া যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া থানা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেসের মালিক ও কেয়ারটেকারদেরও বিষয়টি জানানো হয়।
তিনি জানান, ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রাতের মধ্যে অবস্থানেরও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ল্যাপটপটি বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
ওসি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান হিসেবে সংকেত পাওয়া যায়। ওই সময় তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে থাকার কথা ছিল। পরে ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায় রেলওয়ে পুলিশ। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখনো আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা গেলে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিদেশি পর্যটক আমাদের মেহমান। তার জিনিসপত্র যাতে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’
বুধবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে ক্রিল ল্যান্ডারের থাকার ব্যবস্থা করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত তিনি রাজশাহী রেলওয়ে থানায় অবস্থান করছিলেন। পরে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে তিনি ঢাকায় ফিরেছেন বলে জানান রাজশাহী জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান।


