কক্সবাজারের টেকনাফে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানাকাহের’ জায়গা-জমি, মার্কেট ও অন্যান্য সম্পত্তি দখল এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির উলুবনিয়াস্থ মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শাহ সুফি আব্দুল কাদের ফকিরের ছেলে জালাল আহম্মদ।
জালাল আহম্মদ অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুর পর কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির জায়গা-জমি ও মার্কেট দখলে নেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ ও সম্পদসহ ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে এবং জমি ও মার্কেট থেকে অর্জিত আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকায় তার বাবা মাদ্রাসা ও খানাকাহটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে গত ২৩ জুন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক তাকে তিন বছরের জন্য মোতাওয়াল্লি নিয়োগ দিলেও দখলদারেরা ওই আদেশ মানছেন না।
২০০৬ সালের ২৬ নভেম্বর বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় মৃত হোসেন আলীর সন্তান ছৈয়দ আমিন, রশিদ আমিন, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন ও জুলেখা বেগমসহ কয়েকজন সম্পত্তি দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্তদের কয়েকজন ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে এসে ভুয়া সনদে নাগরিকত্ব নিয়েছেন বলেও দাবি তার। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি সুরক্ষার দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নুরুল আমিন বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব ফরাজ খাতুন ছৈয়দ আমিনকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। জায়গাটির মালিক ফকির সাহেব নন, ফরাজ খাতুন; যিনি মৃত্যুর আগে তাদের নামে জায়গা লিখে দিয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও আদালতের রায় ভুয়া দাবি করে বর্তমানে জায়গাটি নিজেদের দখলে থাকার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ওয়াকফ প্রশাসন অনুমোদিত মোতাওয়াল্লিই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও দেখভালের দায়িত্ব পাবেন। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


