পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের গরমিল, বাংলাদেশে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে না পারা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. হারুন অর রশিদ।
চার দিনের রিমান্ড শেষে রবিউলকে আদালতে হাজির করে ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ডিবির রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আগের চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং তার সঙ্গে কোনো অপরাধের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে ,বিচারক জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে আদালতে বিস্তারিত বলতে চাচ্ছি না।’
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. হারুন অর রশিদ বলেন, রবিউল কয়েকবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য নিয়েও তার বক্তব্য স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে রবিউলকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি বাংলাদেশে কী উদ্দেশ্যে এসেছেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। তিনি নিছক ঘুরতে এসেছেন, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, রবিউলের একাধিকবার বাংলাদেশে প্রবেশ, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তার বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য, এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছে, কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে এবং বাংলাদেশে অবস্থানকালে তার কর্মকাণ্ড কী ছিল, তা উদ্ঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ দরকার।
আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন পরে আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রবিউল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত রবিউলকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। ওই শুনানিতে রবিউলের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, রবিউল ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি যাচাই করে জন্মতারিখের মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশে একাধিকবার আসা-যাওয়া করলেও প্রতিবার আসার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি তিনি।
এর আগে আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবিউল দাবি করেছিলেন, পুলিশ তার কাছ থেকে কোনো অপরাধসংশ্লিষ্ট তথ্য পায়নি। বাংলাদেশে আসার কারণ হিসেবে বন্ধু কাওসারের সঙ্গে গার্মেন্টসের কাপড়ের ব্যবসার কথা জানান তিনি। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেন রবিউল।
পাসপোর্ট, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের অমিলের বিষয়ে তিনি বলেন, কাগজগুলো অনেক আগে তৈরি হওয়ায় তথ্যে কিছুটা অমিল থাকতে পারে।
মামলাটিতে রবিউলের বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার কারণ, তার যোগাযোগ এবং কোনো অপরাধ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, এসব বিষয় তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।


