সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পড়েছেন গ্যাসের তীব্র সংকটে। আগের দিন কারিগরি ত্রুটির কারণে সাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মণিপুরীপাড়ার বাসিন্দা ফাহিমা বানু বলেন, ‘সকাল থেকে গ্যাস একদম নেই।’ গ্যাস সরবরাহের এই সংকট অবশ্য তার সয়ে গেছে। আর এ নিয়ে তিনি প্রস্তুতও থাকেন। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণেই বাসায় সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক চুলার ব্যবস্থা করে রেখেছেন তিনি। ফলে লাইন গ্যাস না থাকায় রান্নায় ব্যাঘাত ঘটেনি।
তবে নতুন ইস্কাটনের গাউসনগরের বাসিন্দা আইনজীবী নাহিদা খানম জানান, ২০২২ সালে এই এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠার পর তিনি পাইপলাইনে গ্যাস না পাওয়ার ঘটনা কখনো দেখেননি।
তিনি দুপুরে মেয়ের জন্য রান্না করতে গিয়ে দেখেন চুলা একেবারেই জ্বলছে না। পরে মেয়েকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যান।
শুক্রবার পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহ শুরুর কথা জানালেও সংকট কাটেনি।
মেরুল বাড্ডার বাসিন্দা নুজহাত রাইসা টাইমসকে বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় আগের দিনের রান্না করা খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সেটাও শেষ হওয়ার পর বাইরে থেকে কিনে আনা হয়েছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) জানায়, মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি ট্রান্সফার ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেছে।
এ কারণে সেদিন সন্ধ্যায় এলএনজি থেকে গ্যাসের সরবরাহ নেমে আসে ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে, যা আগের দিনও এক হাজারের কাছাকাছি ছিল।
পরে শুক্রবার দুপুরের আগে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি ট্রান্সফার শুরু হয়েছে। এতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
তবে আগের দিনের গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব শুক্রবার দিনভর রাজধানীতে রয়ে যায়। ফলে লাইনের গ্যাসের অপেক্ষায় না থেকে অনেক আবাসিক গ্রাহক রান্নার জন্য সিলিন্ডার, ইলেকট্রিক চুলা কিংবা বাইরে থেকে খাবার কেনার মতো বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
মেরুল বাড্ডার বাসিন্দা নাসরিন সুলতানা টাইমসকে বলেন, ‘সকাল থেকেই লাইনে গ্যাস নেই। শুক্রবার বন্ধের দিন বলে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। অন্যদিন হলে সকাল থেকেই বাসার অন্যান্য সদস্যদের জন্য রান্নার চাপ পড়ে যেত।’


