রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র সমাধান: তারেক রহমান

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র সমাধান: তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। ছবি: পিএমও।
Advertisement
Advertisement

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া তার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি এক মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। এর ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’

এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন কামনা করেন।

আরও পড়ুন

এর পাশাপাশি, তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যও জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির তীব্র চাপের মুখে থাকার কথা তুলে ধরে জাতিসংঘে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমঝোতামূলক বিশ্বের কেন্দ্রে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

তুমুল করতালির মধ্যে সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে নিজের প্রথম ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠেন তিনি। এতে বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রার’ কথা তুলে ধরেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে দেখতে চায়।’

জাতিসংঘের এ মঞ্চে দাঁড়িয়ে অতীতে বক্তব্য রেখেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad