কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা হয়।
ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শিশুটির জানাজায় অংশ নেন অপ্রতিমের আত্মীয়-স্বজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে গন্ধমতি ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
জানাজার আগে অপ্রতিমের মরদেহ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রাখা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার।
এর আগে সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে যেন প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে না যায় সেই আহ্বান জানিয়ে সঠিকভাবে তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানান তারা।
এরইমধ্যে অপ্রতিমকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্ত এক কিশোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে তার সঙ্গে থাকা আইফোনটিও। এই ফোনটি ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও ফিরোজ শাহারিয়ার দম্পতির একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ি বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘ সময়েও সন্ধান না পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জিডি করে পরিবার। ছেলেকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চান তার মা নাহিদা বেগম।
একদিন পর শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে অপ্রতিমের মরদেহ দেখতে পান জিলানি নামে এক কৃষক। তিনি জানান, মরদেহটি নিয়ে শিয়াল টানাটানি করছিল।

খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ডিবি ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
শনিবার বিকাল ৩টার দিকে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে অপ্রতিম বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজের আগে তার সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়।
কুমিল্লা কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন বলেন, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যার পর অপর দুজনকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সালমানপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নাহিদা বেগমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।


