সারা দেশে শিশুদের প্রতি চলমান যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার ও নিষ্ঠুর আচরণ প্রতিরোধে অবিলম্বে কার্যকর, প্রতিরোধমূলক ও কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ নূরুল হুদা সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব, আইন সচিব ও ধর্ম সচিব বরাবর এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে হাইকোর্টে রিট করার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে আলিয়া, কওমি ও হিফজসহ সব ধরনের মাদ্রাসার জন্য জাতীয় পর্যায়ে অভিন্নভাবে প্রযোজ্য একটি শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা সেল প্রণয়ন, গঠন ও বাস্তবায়ন শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিএনডব্লিউ মামলায় নির্দেশিত মডেল অনুসরণ করে মাদ্রাসা ও অন্যান্য আবাসিক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিটি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
নোটিশে শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭ থেকে ৯ ধারায় গঠিত জাতীয়, জেলা ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডগুলোকে নিজ নিজ এখতিয়ারাধীন প্রতিটি মাদ্রাসার সুরক্ষা ব্যবস্থা নিরীক্ষা করার এবং সেই নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মাদ্রাসার প্রবেশপথ, করিডোর, শ্রেণিকক্ষ ও সাধারণ আবাসিক এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। তবে বাথরুম, টয়লেট বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত স্থানে ক্যামেরা স্থাপন স্পষ্টভাবে ও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সিসিটিভি স্থাপনের উদ্দেশ্য হবে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা; শিশুদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর নজরদারি করা নয়।
আইনি নোটিশে সারা দেশে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার ও নিষ্ঠুর আচরণ প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও আবাসিক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষায় এসব কাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


