একটু বৃষ্টি হলে রাস্তা যেন রূপ নেয় কাদার সাগরে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে বন্ধ থাকে যান চলাচল। মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বড়বাড়্ডা থেকে দক্ষিণ বড়বাড়্ডা পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
দীর্ঘদিন সড়কটি পাকা বা সংস্কার না হওয়ায় বড় খালপাড়, জয়াইর, হাদুল্লাপুরসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ওঠা ষাটোর্ধ্ব সাফি বেগমকে স্বজনরা ভ্যান ঠেলে কাদা-পানি মাড়িয়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল দাস জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটির বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের। কাদার কারণে অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিকল্প রাস্তা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরাও। কাঁচামাল সময়মতো বাজারে নিতে না পেরে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সড়কটির কারণে সামাজিক জীবন থমকে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কলেজ শিক্ষার্থী সায়মন ইসলাম। তিনি জানান, বর্ষায় কাদার জন্য বিয়ে কিংবা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজনের যাতায়াত দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী খালেক কবিরাজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার ও পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ নতুন করে ফিরে আসে।’
সম্প্রতি এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকা করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী হায়দার খান বলেন, ‘সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


