আমন ধানের মৌসুমে মাগুরায় সরকারি গুদামে প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার মজুদ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মাঠে গিয়ে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন কৃষকরা।
বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি নিয়ে বেশি ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন তারা। কোথাও কম পরিমাণ সার দেওয়া, আবার কোথাও প্রয়োজনের সঙ্গে মিল না থাকা অন্য সার কিনতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাগুরার তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট আবাদযোগ্য জমি ৮১ হাজার ৭৬২ হেক্টর। চলতি আমন মৌসুমে ৬১ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। টন।
ডিএই মাগুরার ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আজম উদ্দিনের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেপ্টেম্বরের বরাদ্দও নিশ্চিত হয়েছে। কৃষকদের সুবিধার জন্য আগাম সার উত্তোলনের নির্দেশনাও রয়েছে। তবে সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ তার দপ্তরে জমা পড়েনি।
অন্যদিকে, কৃষকরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। সদর উপজেলার ইসলামবাগের কৃষক ঈদুল জানান, ছয় বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। কয়েক দিন ধরে সার খুঁজেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তার অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বেশি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব পেলে সার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
বাগডাঙ্গার কৃষক শিতিরঞ্জনের প্রয়োজন ছিল টিএসপি ও ডিএপি। কিন্তু ডিলারের কাছে গিয়ে তিনি কাঙ্ক্ষিত সার পাননি। অল্প কিছু সার দেওয়ার পাশাপাশি ইউরিয়া ও পটাশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিএডিসির উপসহকারী পরিচালক (সার) বি. এম. মাহমুদ হাসানের দেওয়া তথ্যে, মাগুরার গুদামে পাঁচ হাজার চার দশমিক ৪১ মেট্রিক টন টিএসপি, চার হাজার ৪৫৩ দশমিক ৪৭ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ৫৩৬ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন এমওপি রয়েছে। বিসিআইসির হিসাব অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ইউরিয়ার মজুদ ১ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন।
আরেক কর্মকর্তা এস. এম. মাহবুবুর রহমান জানান, মাগুরা ও ঝিনাইদহের ২১০ জন ডিলার গত ছয় মাসে প্রায় ২৬ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ পেয়েছেন। তার দাবি, বরাদ্দের পুরো পরিমাণই ডিলাররা উত্তোলন করেছেন।
লক্ষীকান্তপুরের খুচরা বিক্রেতা মো. আসলাম হোসেনের ভাষ্য, কৃষকদের মধ্যে ডিএপি ও টিএসপির চাহিদা বেশি হলেও সব সময় সে অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যায় না।
ডিলার মেসার্স শিকদার ইন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. টিপু শিকদারের মতে, বরাদ্দ বাড়ানো গেলে সংকট কমতে পারে।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট জাগলা বাজারে মেসার্স সাগর ট্রেডার্সে অভিযান চালিয়ে দুই বস্তা ভেজাল ডিএপি পাওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অভিযোগকারী কৃষককে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।


