এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখায় প্রবেশ করেন ষাটোর্ধ্ব মোছা. আলেয়া। কাঁচের দরজার ওপারে ব্যাংকের চেনা ব্যস্ততা দেখে প্রবীণ মনের গহীনে হয়তো জমা হয়েছিল দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার চিরাচরিত আশঙ্কা। তবে সেই আশঙ্কার মেঘ কাটতে সময় লাগেনি এক মুহূর্তও।
দরজার মুখেই উষ্ণ অভ্যর্থনায় এগিয়ে এলেন ব্যাংকের কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। তাকে নিকটস্থ আসনে বসিয়ে এগিয়ে দেন এক গ্লাস পানি। এরপর তার কাছেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজের তথ্য জেনে নিয়ে ইমরুল নিজে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং সেবা শেষে মোছা. আলেয়াকে শাখার ফটক পর্যন্ত পৌঁছে দেন। প্রবীণ গ্রাহকের চোখেমুখে তখন কেবলই স্বস্তির আলো।
মোছা. আলেয়ার এই স্বস্তিময় অভিজ্ঞতা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়; বরং এনআরবিসি ব্যাংক ভৈরব শাখার প্রবীণবান্ধব সেবা ‘সান্নিধ্য’-এর নিয়মিত চিত্র।
ব্যাংকে আসা একজন প্রবীণ মানুষের কাছে একটি সাধারণ ব্যাংকিং কাজও কখনো কখনো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা পেতে অপেক্ষা করা–বয়সের ভারে এসবই হয়ে ওঠে বাড়তি বিড়ম্বনা।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি মানবিকতা, সম্মান ও সহমর্মিতাকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখা। ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব গ্রাহকদের জন্য চালু করেছে বিশেষ সেবা ব্যবস্থা ‘সান্নিধ্য’। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আওতায় কোনো ষাটোর্ধ্ব গ্রাহক শাখায় প্রবেশ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং তার প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে জেনে কাজ সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করছেন।
ফলে একজন প্রবীণ গ্রাহকের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা এক ডেস্ক থেকে অন্য ডেস্কে ঘোরাঘুরি করার প্রয়োজন অনেকটাই কমে এসেছে।
উদ্যোগটি সম্পর্কে এনআরবিসি ব্যাংক ভৈরব শাখার ব্যবস্থাপক রকিবুল হাসান বলেন, ‘একজন প্রবীণ গ্রাহক যখন ব্যাংকে আসেন, তখন তিনি শুধু একজন গ্রাহক নন—তিনি আমাদের সমাজ ও অর্থনীতির দীর্ঘ পথচলার একজন অংশীদার। জীবনের একটি দীর্ঘ সময় তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে এসে তাদের যদি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেটি আমাদের জন্যও স্বস্তির বিষয় নয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা তাদের একটু বেশি স্বাচ্ছন্দ্য, একটু বেশি যত্ন এবং প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় প্রবীণ গ্রাহকরাও। শাখার গ্রাহক ও ভৈরব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ মুন্সী রুহুল আমিন বলেন, ‘একজন বয়স্ক মানুষ যখন দেখবেন তার জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রয়েছে, কেউ তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো বুঝে সহযোগিতা করছেন–তখন তার মনে একটি ভালো লাগা তৈরি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি নিছক একটি সেবা নয়, প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত।’
ব্যাংকিং সেবায় প্রবীণবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে ভৈরব শাখার এই উদ্যোগটি ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে সাড়া ফেলেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।


