নেপাল ও তিব্বতে বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। দুই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৮০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৪৮ জন।
এর মধ্যে নেপালে নিহত হয়েছেন ৭৮৮ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন। সীমান্তের চীনা অংশে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ৫৪৬ জন।
এরই মধ্যে নেপালের ভোতেকোশি নদীতে পানির স্তর আবার বাড়ছে। নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার সকালে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, উজানে পানির প্রবাহ বেড়েছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ নেপালকে জানিয়েছে। এরপর নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়।
বুধবারের বিপর্যয়ের পঞ্চম দিনেও উদ্ধার অভিযান চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে কাঠমান্ডুর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক পরিষ্কারের কাজও চলছে।
নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০টি দেশের কয়েক শ নাগরিক রয়েছেন। তারা কাজ, পর্বতে ভ্রমণ বা কৈলাস শৃঙ্গে তীর্থযাত্রার জন্য ওই অঞ্চলে গিয়েছিলেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শতাধিক নেপালি।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি ধাদিংয়ে বাসিন্দারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরে ফিরেছেন। কেউ ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন, কেউ হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র খুঁজছেন।
ধাদিংয়ের বাসিন্দা শর্মিলা তামাং বলেন, ‘সবকিছু শেষ। কিছুই অবশিষ্ট নেই, এমনকি আমাদের বাড়িটাও না।’
বন্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সেতু ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চার জেলার ২০ হাজারের বেশি মানুষ একটি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। অনেক এলাকা এখনও বিদ্যুৎবিহীন।
পৃথ্বী মহাসড়কের বেশির ভাগ অংশ চালু থাকলেও কয়েকটি অংশ সংস্কারের অপেক্ষায়। বড় কংক্রিট সেতু ও ঝুলন্ত সেতু ধ্বংস হওয়ায় নদীর দুই পাশের বহু জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর বুধবার আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। ধসে পড়া পাথর ও গলিত পানি নিচের নদীগুলো ফুলিয়ে দেয়। প্রবল স্রোতে তিব্বত ও নেপালে ভবন, সেতু ও বিপুল পরিমাণ মাটি ভেসে যায়।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পদক্ষেপ জরুরি। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের বড় শিকার।
তবে বুধবারের বিপর্যয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
এদিকে নেপালে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে বিশেষায়িত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুর্যোগে আক্রান্ত মালয়েশীয় নাগরিকদের সরিয়ে নিতেও দলটি কাজ করবে। নেপালকে ১০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মালয়েশিয়া।


