পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আগ্রহের খবর সামনে আসার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে ভারত।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোওয়াল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যেসব ঘটনা ঘটছে, আমরা সেগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এ মুহূর্তে এটুকুই বলার আছে।’
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আমন্ত্রণ পেলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
গত ৭ আগস্ট সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কায় এ চুক্তি সই করেন। তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করাই চুক্তির লক্ষ্য। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা, সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে চুক্তিটি সই হয়। গত সপ্তাহে ভারত জানিয়েছিল, নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর এ চুক্তির প্রভাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।
এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে রণধীর জয়সোওয়াল বলেন, এ বিষয়ে জানানোর মতো নতুন কোনো তথ্য নেই। কোনো আপডেট পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য চুক্তিটি সই হয়েছিল। এ–সংক্রান্ত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


