সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের দুই পাশের প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কেটে ফেলছে বন বিভাগ। এনিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে বন বিভাগ বলছে, সুনামগঞ্জ থেকে সাচনাবাজার পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের জন্য গাছ কাটা হচ্ছে।
অথচ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, টুকের বাজার থেকে সাচনা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণে তাদের কোনো প্রকল্প নেই।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর আগেও একই সড়কের গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন স্থানীয় ও পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদের মুখে তা বন্ধ হয়। এবার ফের গাছ কাটার ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট শনিবার গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’। সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগী ও স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। আর মাত্র ৮৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে এসব গাছ, যাতে একেকটি গাছের দাম পড়েছে মাত্র ১ হাজার ৮০০ টাকার কিছু বেশি। অথচ স্থানীয়ভাবে এসব গাছ কিনতে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হতো। পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি নামমাত্র মূল্যে গাছ কেনাবেচা করছে একটি সিন্ডিকেট।
বক্তাদের অভিযোগ, রাস্তা সম্প্রসারণের দোহাই দিয়ে গাছ কাটার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। এসময় গাছ কাটা বন্ধ, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেওয়া এবং গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান স্থানীয়রা।
সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে সাচনাবাজার পর্যন্ত পুরো রাস্তা সম্প্রসারণ হবে। এজন্য গাছ কাটা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লট ক্রেতারা টাকা জমা দিয়ে গাছ কেটে নেওয়ার কার্যাদেশ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে গাছ কাটা চলছে বলেও জানান রিয়াজ উদ্দিন।
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সুনামগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, টুকের বাজার থেকে সাচনা পর্যন্ত রাস্তায় সওজের কোনো প্রকল্প চলমান নেই। তাই গাছ কাটার সঙ্গে সওজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।


