লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের শিশু নন্দিনী রায়কে হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র রায়কে (২২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধে সহায়তার দায়ে বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার রায় ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার সকাল ১১ টার দিকে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী চার্জগঠনের মাত্র ছয় কার্যদিবসের মাথায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্তের শিশু কন্যা নন্দিনী রায়। পরদিন ১৬ জুন সকালে নিজ বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতের গর্ত থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা। পরে নন্দিনীর বাবা বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলায় দায়ের করেন। ওই দিনই পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রতিবেশী রনজিতের ছেলে বিধান চন্দ্রকে আটক করে। পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নন্দিনীকে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বিধান।

তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় চার্জশীট দাখিল করেন। গত ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জগঠন করা হয়। এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জবানবন্দি পরীক্ষা করা হয়। ২০ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদালত।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) বলেন, মাত্র ছয় কার্যদিবসে ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আলামত পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। দ্রুততম সময়ে পাওয়া এই রায়, বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে। শিশু নন্দিনীর কানের দুল ও পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছিলো। তবে, আসামী পক্ষের আইনজীবী লুৎফর রহমান রিপন এই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে, রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত শিশুটির বাবা নলিনী কান্ত বলেন, ‘আমার অবুঝ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আদালত যে বিচার দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত যেন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি।’
এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে দণ্ডপ্রাপ্তদের কড়া নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


