এসডিজি ১৬ এগিয়ে নিতে তরুণ মানবাধিকার ফেলোদের অঙ্গীকার

এসডিজি ১৬ এগিয়ে নিতে তরুণ মানবাধিকার ফেলোদের অঙ্গীকার
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪০ জন তরুণ মানবাধিকার ফেলো স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা মানবাধিকার বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের এলাকায় অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন।

একই সঙ্গে তারা শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনের লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৬ (এসডিজি ১৬) এগিয়ে নিতেও ভূমিকা রাখবেন।

সুইজারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালিত এই ফেলোশিপের মাধ্যমে তরুণদের মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা নিরাপদভাবে জানানোর বিষয়ে ধারণা দেওয়া এবং নাগরিক উদ্যোগে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় তারা ২৪১টি ওরিয়েন্টেশন সেশন পরিচালনা করেন এবং দেশের প্রতিটি জেলার ৪ হাজার ১২৯ জন তরুণের কাছে পৌঁছান।

শনিবার গাজীপুরে আয়োজিত স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে ফেলো, প্রশিক্ষক এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে তারা কর্মসূচির অর্জনগুলো নিয়ে আলোচনা করেন, নিজ নিজ এলাকার অভিজ্ঞতা ও গল্প তুলে ধরেন এবং তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত মানবাধিকার শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে দেশজুড়ে আরও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন তুলে ধরা হয়, সাবেক ফেলোরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, সনদ বিতরণ করা হয় ও ফেলোশিপ কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন

মানবাধিকার বিষয়ে মৌলিক ধারণা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত ধারাবাহিক ওরিয়েন্টেশন সেশনের মাধ্যমে এই ফেলোশিপ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। এসব সেশনে ২৮৭ জন তরুণ অংশ নেন। পরবর্তীতে ১৫১ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৪০ জন ফেলো নির্বাচন করা হয়। তারা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বাংলাদেশজুড়ে ২৪১টি অনলাইন ওরিয়েন্টেশন সেশন পরিচালনা করেন। এসব সেশনের মাধ্যমে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকার ৪ হাজার ১২৯ জন তরুণের কাছে মানবাধিকার বিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বাংলাদেশের সুশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি উপদেষ্টা ড্রাগান পপোভিচ বলেন, ‘এই ফেলোরা দেখিয়েছেন, তরুণরা শুধু মানবাধিকার শিক্ষার সুবিধাভোগী নন; তারা নিজেরাও মানবাধিকার বিষয়ে অন্যদের শেখাতে পারেন, অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন এবং নিজেদের এলাকার মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারেন। তাদের কাজ দেখিয়ে দেয়, নেতৃত্ব ও স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে জ্ঞান যুক্ত হলে তা সমাজে মানবাধিকারের চর্চা আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন ফেলো বলেন, এই ফেলোশিপ তাদের জ্ঞানের পাশাপাশি দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও বাস্তব দক্ষতা। এর মাধ্যমে তারা মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলতে, নিজেদের এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে এবং কেউ যখন অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন, তখন কোথায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে—তা অন্যদের জানাতে পারছেন।

এই উদ্যোগটি মানবাধিকার রক্ষাকারীদের সহায়তা এবং তরুণ অধিকারসচেতন কর্মী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় প্রতিষ্ঠান, নীতি ও সেবা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা, শান্তি ও ন্যায়বিচার এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান এবং তরুণ সম্পৃক্ততা বিশ্লেষক সুসান সুহা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad