নানা বাড়িতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ বাবার

নানা বাড়িতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ বাবার
হাফিজুর রহমান। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে চার বছর বয়সী হাফিজুর রহমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুর বাবার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে নানা পরিবারের দাবি, সে পানিতে ডুবে মারা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে মা নাদিরার সঙ্গে কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে যায় হাফিজুর রহমান। গত ৩০ জুন একটি অপরিচিত নম্বর থেকে শিশুর বাবা শরীয়তপুরের বাসিন্দা হানিফ শিকারীর মোবাইলে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে পাশের নদীতে ডুবে গেছে।

হানিফের অভিযোগ, তার স্ত্রী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ সরাসরি তাকে বিষয়টি জানায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী ও স্বজনরা অন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে শিশুটির মৃত্যু হয়।

হানিফ বলেন, ‘আমার স্ত্রী অনেক দিন আগে বাবার বাড়িতে যায়। পরে ফোন করে জানায়, সে আর আমার সঙ্গে সংসার করবে না এবং দেনমোহরের বকেয়া টাকা দাবি করে। আমি বলেছিলাম, মুরব্বিদের নিয়ে এসে টাকা নিয়ে যেতে এবং আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু তারা আমার সন্তানকে জীবিত না দিয়ে মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আরও পড়ুন

নিহতের চাচা রাজু শিকারী বলেন, ‘ঘটনার দিন আমরা নদীতে নেমে শিশুটিকে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। পরদিন মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

অন্যদিকে নিহত শিশুর নানা বাদল খান সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘আমার নাতি পানিতে ডুবে মারা গেছে। এখানে কোনো রহস্য নেই। কোনো মা নিজের সন্তানকে হত্যা করতে পারে না। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ তদন্ত করে যে সত্য পাবে, আমরা সেটাই মেনে নেব।’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি হত্যা বলে মনে হয়নি। তবে একটি অপমৃত্যুর মামলা নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদি হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad