রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্ত্রী সামিয়ার মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী হাফিজ মোল্লা। অভিযোগ রয়েছে স্বামীর নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত সামিয়া আক্তার (২৭) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। শুক্রবার রাতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ এনে জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ২ টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া মারা যান। পরে তার স্বামী হাফিজ মোল্লা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ মরদেহ মর্গে রেখে দেয়। খবর পেয়ে সামিয়ার স্বজনরা হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে।
অভিযুক্ত হাফিজও জয়নগর এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে হাফিজ। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগে ছিল। সামিয়া ছাড়াও তার আরও দুইজন স্ত্রী রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাফিজ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহত সামিয়ার ছোট ভাই মো. হাসান বলেন, ‘গত ১৬ জুন আমার বোনকে হাফিজ পিটিয়ে আহত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে নয়দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আমার বোন মারা যান। তার মৃত্যুর খবর জানতে পেরেই মরদেহ মর্গে রেখে হাফিজ কৌশলে পালিয়ে যায়।’
হাসান আরও বলেন, ‘ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাকে জানায়। পুলিশ এসে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
নিহত সামিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়েটা খুব ভালো ছিল। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নানামুখী নির্যাতন চালিয়ে আসছিল হাফিজ। নির্যাতনের ঘটনায় ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী হাফিজের ফাঁসি চাই।’
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ভুক্তভোগীর বাবা থানায় আগেই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। যেখানে একজন নারী বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন মর্মে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা শেরেবাংলা নগর থানাকে সুরতহাল রিপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। সেই প্রতিবেদন পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


