যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যেকোনো চুক্তি সম্পন্ন হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তা মেনে নেওয়া ছাড়া ‘কোনো উপায় থাকবে না।’ রোববার রাতে ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল কী হবে তা ইসরায়েল নয়, বরং ওয়াশিংটন নির্ধারণ করবে। ইসরায়েলে ইরানের একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তার কোনো উপায় থাকবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সব সিদ্ধান্ত আমার। তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন।’
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এই হামলা চলমান প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
‘আমার মনে হয় চুক্তিটি হতে যাচ্ছে। দেখা যাক কী হয়,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তি তার নিজস্ব শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে এবং এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
ট্রাম্প ইসরায়েলে ইরানের হামলার প্রভাবকেও বেশ হালকা করে দেখিয়ে বলেন, ‘এতে তেমন কোনো ক্ষতিই হয়নি।’ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে তিনি বর্ণনা করেন এভাবে— ‘এটি এমন একটি বিষয় যা আপনি কীভাবে গণনা করছেন তার ওপর ভিত্তি করে ৩ হাজার বছর বা ৪৭ বছর ধরে চলছে।’
যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তবে কী হবে—জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, দুটি পথ খোলা আছে। একটি হলো ইরানে অসমাপ্ত লক্ষ্যগুলো পূরণে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া। আর অন্যটি হলো দেশটির ওপর অবরোধ (ব্লকেড) বজায় রাখা।
তিনি বলেন, ‘এই অবরোধ সম্ভবত সেই দেশের ওপর চালানো যেকোনো হামলার চেয়েও বেশি শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে।’
গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার একটি উত্তপ্ত ফোনালাপের খবর প্রকাশের পর এই মন্তব্যগুলো সামনে এল।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ‘আমি না থাকলে আপনি এতদিনে কারাগারে থাকতেন। এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। এই সবকিছুর কারণে সবাই এখন ইসরায়েলকে ঘৃণা করছে।’
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের কাছে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল, তবে তিনি ওই প্রতিবেদনের দাবিটি অস্বীকার করেননি।
এদিকে, লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত রোববারও বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েলে তাদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল বৈরুতে চালানো সেই ইসরায়েলি হামলারই একটি জবাব। অন্যদিকে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলও। আল জাজিরার খবরে জানা গেছে, সোমবার ভোরে রাজধানী তেহরান, ইসফাহান, তাবরিজসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।


