চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি (সিসিইএ)। যেখানে সাধারণ শুল্ক ও বাণিজ্য বাধা শিথিল করে রপ্তানিমুখী শিল্প-বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকে।
বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি আধুনিক ফ্রি ট্রেড জোন গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে আসছে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ১০টি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন দেশের ফ্রি ট্রেড জোন ব্যবস্থাপনা, আইন, প্রণোদনা কাঠামো ও পরিচালন মডেল পর্যালোচনা করে বিস্তারিত সুপারিশ প্রণয়ন করে।
সেই সুপারিশের ভিত্তিতে অবকাঠামো সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংযোগ, লজিস্টিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ সম্ভাবনা বিবেচনায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী আনোয়ারা এলাকাকে দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোনের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
সরকার বলছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, লজিস্টিক হাব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি বেজার গভর্নিং বোর্ডের নবম সভায় ফ্রি ট্রেড জোন স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে আইন ও নীতিমালা সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০, কাস্টমস আইন ২০২৩, ওয়্যারহাউস লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০২৪, আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪, রপ্তানি নীতি আদেশ ২০২৪–২০২৭, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এবং জাতীয় লজিস্টিকস নীতিমালা ২০২৪ সহ বিভিন্ন বিধি পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
সরকারের মতে, দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবং দেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিক ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথ তৈরি করবে।


