জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, সমতাভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং স্বনির্ভরতাই হবে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর মূল ভিত্তি।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর “ফ্যামিলি কার্ড” বা পরিবার কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে দরিদ্র পরিবারগুলো প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবে। বর্তমানে এর পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে, এই কর্মসূচি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবার এই উদ্যোগ থেকে উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এজন্য বাজেটে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বর্ধিত সুবিধার কথাও ঘোষণা করেছেন। এখন থেকে ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সী নাগরিকেরা ট্রেনে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। এর পাশাপাশি তারা মেট্রোরেল সেবায় ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।
প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখ করা হবে এবং মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুবিধাও ১ লাখ জন পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। একই সাথে শ্রেণীভেদে তাদের মাসিক উপবৃত্তি এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে।
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার উপকারভোগী প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ছয়টি মারাত্মক ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে এককালীন অনুদানের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হচ্ছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিও বাড়ানো হয়েছে, যা এখন থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪০০ টাকা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পেতে থাকবেন। তবে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী বীর শ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তরা ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম ৩০ হাজার টাকা, বীর বিক্রম ২৫ হাজার টাকা এবং বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্তরা ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন।
এর পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারগুলোর জন্য প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সহায়তা চলমান থাকবে। এই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা তাদের আঘাতের শ্রেণী অনুযায়ী প্রতি মাসে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাবেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতের প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এর আগের অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য বিমোচন করা এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া।


