রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় শৌচাগার থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ওই মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থী মো. শিহাব হোসেনকে (২০) পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার উপপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে গ্রেপ্তার আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, ভিকটিমের আত্মহত্যায় প্ররোচণাসহ অস্বাভাবিক যৌনাচারের সঙ্গে অন্য কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না, তা উদ্ঘাটনসহ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তবে এদিন আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এর আগে গত বুধবার রাত ৮টায় পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে শিহাবকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানা পুলিশ।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রামপুরা থানার বনশ্রীর সি-ব্লকে আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে মো. আব্দুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় দেখা গেছে, তার পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের চিহ্ন রয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিহাব নামের আরেক শিক্ষার্থীর কথা জানায়। যিনি এর আগেও মাদ্রাসার চারজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত ছিলেন। আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর থেকে তিনি পলাতক। এই ঘটনায় আব্দুল্লাহর মা মোছাম্মৎ টুকু আরা খাতুন রামপুরা থানায় শিহাব ও অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


