পুষ্টিহীনতার কারণে মারা যাচ্ছে হামে আক্রান্ত শিশু। অথচ যেসব হাসপাতালে তাদের জীবন বাঁচানোর কথা, সেখানে এখনো পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসকেরা বলছেন, সাধারণ ওয়ার্ডের তুলনায় হাম ওয়ার্ডের খাবার সামান্য উন্নত হলেও তা অসুস্থ শিশুর সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
মূলত আমলাতন্ত্রের লাল ফিতার জটিলতা আর কঠোর বাজেটের মারপ্যাঁচই শিশুর বেঁচে থাকার অধিকারের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। কারণ, প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের জন্য দরকার পর্যাপ্ত অর্থ। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে সেই বাজেট নেই। আর বাজেট পেতে নির্ভর করতে হয় আমলাতন্ত্রের ওপর।
এই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন নোয়াখালীর সুবর্ণা সুলতানা। শ্বাসকষ্ট নিয়ে তার পাঁচ বছরের ছেলে আবু বকর প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পর তার হাম শনাক্ত হলে তাকে বিশেষায়িত হাম ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সুবর্ণা জানান, সাধারণ শিশু ওয়ার্ডের খাবার যেখানে মুখে তোলার মতো ছিল না, সেই তুলনায় হাম ইউনিটের খাবারের মান কিছুটা ভালো।
তবে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেছেন, সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য একটি শিশুর পক্ষে এই ‘কিছুটা ভালো’ খাবার মোটেও যথেষ্ট নয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিদিন রোগীপ্রতি মাত্র ১৭৫ টাকা বাজেটের কারণে তাদের হাত বাঁধা। এই সামান্য টাকা দিয়েই একজন রোগীর চার বেলার খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আবু তোরাব মো. আবদুর রহিম বলেন, বর্তমান বাজারদরে এই বাজেট সম্পূর্ণ অবাস্তব। এই টাকা দিয়ে কোনো শিশু বা মায়ের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
হাসপাতালের দৈনিক খাবারের তালিকা দেখলেই এই আর্থিক সংকটের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সকালের নাস্তায় দেওয়া হয় পাউরুটি, একটি সেদ্ধ ডিম, একটি কলা এবং ২০০ মিলিলিটার দুধ। দুপুরে থাকে ১৭৫ গ্রাম ভাত, ৯৫ গ্রাম মাছ, ১২০ গ্রাম সবজি ও ১৫ গ্রাম ডাল। বিকালে দেওয়া হয় বিস্কুট, একটি কলা ও আরেকটি সেদ্ধ ডিম। আর রাতে দেওয়া হয় ১৭৫ গ্রাম ভাত, ৯৫ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংস, ১২০ গ্রাম সবজি ও ১৫ গ্রাম ডাল।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মো. মুশতাক হোসেন এই খাদ্যতালিকার সমালোচনা করে বলেন, এই খাবার কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। কারণ, অসুস্থ শিশুদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রতিদিন ডিম, দুধ, মাছ ও মাংসের সঠিক অনুপাত প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, পুষ্টি হলো রোগীর চিকিৎসার একটি মৌলিক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর চিকিৎসা, খাবার ও সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরম দায়িত্ব। রোগীর পুষ্টির বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনারই অংশ।
তবে বিশেষজ্ঞদের এই সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নীতিগত কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) এস এম মাহমুদুর রশীদ স্বীকার করেন, হাম রোগীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তাও তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
পুষ্টির তীব্র সংকট
বাংলাদেশ বর্তমানে মারাত্মক পুষ্টি সংকটের মুখোমুখি। ইউনিসেফের ২০২৪ সালের ‘চাইল্ড ফুড পোভার্টি: নিউট্রিশন ডিপ্রাইভেশন ইন আর্লি চাইল্ডহুড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে দুজনই–অর্থাৎ প্রায় এক কোটি শিশু খাদ্য দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে।
ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন স্বীকার করেন, হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর মায়েরাই পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। হামে মৃত্যুর মূল কারণ এই পুষ্টিহীনতা। কারণ, এর ফলে দুর্বল শিশুরা নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতায় সহজে আক্রান্ত হয়।
অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ এই সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, হামে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তারা আগে থেকেই তীব্র পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল। যেহেতু শিশুরা পুরোপুরি মায়ের দুধের ওপর নির্ভরশীল, তাই একজন পুষ্টিহীন মা তার শিশুকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে পারেন না।
গত মার্চ মাস থেকে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, রোগটি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন মারা গেছেন। এতে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে।
সরকার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও সমালোচকদের দাবি, এই উদ্যোগে গতি নেই। কিছুদিন আগেও লক্ষণযুক্ত শিশুদের অন্য সাধারণ রোগীদের সাথেই রাখা হতো।
যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবশেষে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলার নির্দেশ দিয়েছে, তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, হাসপাতালগুলো এখনো আক্রান্ত শিশু ও মায়েদের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দিতে পারছে না।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক খাদ্য পথ্য ওষুধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ডক্টর আতিকুল ইসলাম ‘টাইমস’কে বলেন, হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। তাই শরীর পুনর্গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য শিশুদের বাড়তি পুষ্টি, বিশেষ করে মাছ, ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাতীয় প্রাণিজ আমিষের প্রয়োজন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্তন্যদানকারী মায়েদেরও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। কারণ, মায়ের খাদ্যের সাথে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
অধ্যাপক আবু তোরাব মো. আবদুর রহিমও একই কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে দেন, মা পুষ্টিহীন হলে শিশুও পুষ্টিহীনতায় ভুগবে। যেহেতু ছোঁয়াচে হাম পুষ্টিহীন শরীরে দ্রুত ক্ষতি করে, তাই অধ্যাপক রহিম পরামর্শ দেন স্তন্যদানকারী মায়েদের প্রাণিজ আমিষের পাশাপাশি প্রচুর ফলমূল খেতে দেওয়া উচিত।
আর্থিক সামর্থ্যের অভাব
যেকোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে গেলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, হামে আক্রান্ত হওয়া বেশিরভাগ পরিবারই নিম্নআয়ের। এসব পরিবারের পক্ষে নিজেদের খরচে বাড়তি পুষ্টিকর খাবার কিনে খাওয়ানো একেবারেই অসম্ভব। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে আসা পরিবারগুলোকে খাবারের জন্য বাইরের সস্তা হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত কি না তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের সাথে থাকা সুবর্ণা জানান, তিনি পুরোপুরি হাসপাতালের খাবারের ওপর নির্ভরশীল। কারণ, বাইরে থেকে খাবার কেনার সামর্থ্য তার নেই। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে খাবারের কোনো নির্দিষ্ট তালিকা বা নির্দেশনাও দেননি।
অন্যান্য অভিভাবকদের কণ্ঠেও একই রকম অসহায়ত্ব। পাঁচ বছর বয়সী ইব্রাহিমের মা জানান, তার সন্তান দুই দিন ধরে শুধু স্যালাইনের ওপর রয়েছে। কোনো শক্ত খাবার সে মুখে দিতে পারছে না।
খাবারে বৈষম্য
এই আর্থিক কষ্টের পাশাপাশি হাসপাতালে খাবার বিতরণে নিয়োজিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ওয়ার্ডের রোগীদের যেখানে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে, সেখানে তুলনামূলক ভালো খাবার বরাদ্দ থাকছে প্রাইভেট কেবিনের রোগীদের জন্য।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্ভিস সুপারভাইজার ফরিদা ইয়াসমিন এই ব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, কেবিনের রোগীরা বাড়তি ভাড়া দেন বলে তাদের আলাদা এবং তুলনামূলক ভালো খাবার দেওয়া হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন এই বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করে একে কাঠামোগত ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা তাদেরই সুবিধা দিচ্ছে যাদের সামর্থ্য আছে। আর সবচেয়ে অসহায় ও পুষ্টিহীন রোগীরা পাচ্ছে সবচেয়ে খারাপ খাবার।
মুশতাক হোসেনের মতে, হাম এখন মূলত নিম্নবিত্তের মানুষের ওপর আঘাত হানছে বলেই এই সংকটকে অবহেলা করা হচ্ছে। যদি এই মহামারি ধনীদের আক্রান্ত করত, তবে সরকার এতদিনে বিনামূল্যে সব ধরনের সেবার ব্যবস্থা করত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইসোলেশনের নির্দেশ
সংকট তীব্র হওয়ার প্রেক্ষিতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা। এতে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে আলাদা কেবিন বা ওয়ার্ড প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট চালু করতে হবে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরকারি ছুটির দিনসহ সপ্তাহের সাত দিনই সকাল ও বিকালে ওয়ার্ড রাউন্ড বা রোগী দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ছোঁয়াচে ভাইরাস যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য রোগীর সঙ্গে থাকার বিষয়টি সীমিত করা হয়েছে। আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে যেকোনো সময়ে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী থাকতে পারবেন।
আরও ১১ শিশুর মৃত্যু
সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর লক্ষণ নিয়ে আরও ১১টি শিশুর মৃত্যু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। এই মৃতদের মধ্যে দুজনের ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি নয়জনের শরীরে ভাইরাসের তীব্র লক্ষণ ছিল। মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১,৩৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ২৬৪ জন সন্দেহভাজন এবং ৭৩ জনের ল্যাব পরীক্ষায় সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এই প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৫৮৬ জনে। এ ছাড়া ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে সাত হাজার ৯২৯ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রোগীর এই উপচে পড়া ভিড় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৯৮৩ জন আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪০ হাজার ৯০ জন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে, যার মধ্যে সন্দেহভাজন ৩৯৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত ৭৭ জন। বিভাগীয় তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগ দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল, যেখানে সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয় হারই সবচেয়ে বেশি।
সরকারের অগ্রগতি প্রতিবেদন চাইল হাইকোর্ট
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।
এই আদেশের পাশাপাশি আদালত একটি রুল জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না, যা এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ চিহ্নিত করবে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবে।
এ ছাড়া, এই মহামারিতে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশুর পরিবারকে কেন সরকার পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।


