পেন্টাগনের ইউএফও ফাইল: কী আছে সেখানে?

পেন্টাগনের ইউএফও ফাইল: কী আছে সেখানে?
Advertisement
Advertisement

মহাকাশে ভিনগ্রহের যান বা ইউএফও (আনআইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্টস বা অজানা উড়ন্ত বস্তু) নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহলের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সম্প্রতি তারা ইউএফও সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন গোপন নথি, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ প্রকাশ করেছে।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকাশের এই রহস্যময় ঘটনাগুলো নিয়ে জনগণকে ‘নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে’ উৎসাহিত করার পর এই নথিগুলো জনসমক্ষে আনা হলো।

কয়েক দশকের রহস্য উন্মোচন

বছরের পর বছর ধরে কাজ করার পর অবমুক্ত করা এই ফাইলগুলোতে কয়েক দশকের চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে। এতে নভোচারীদের দেখা অদ্ভুত বস্তু থেকে শুরু করে সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে উড়ে যাওয়া রহস্যময় যানের বর্ণনা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে লিখেছেন, “আগের প্রশাসনগুলো এই বিষয়ে স্বচ্ছ থাকতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এই নতুন নথি এবং ভিডিওর মাধ্যমে মানুষ এখন নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে— আসলে সেখানে কী ঘটছে?”

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, এফবিআই এবং নাসার রিপোর্ট সম্বলিত এই নথিগুলো নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বেশিরভাগ ইউএফও দর্শনের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, যা সাধারণ মানুষ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে।

রোমাঞ্চকর কিছু ঘটনা

আরও পড়ুন

নথিগুলোর মধ্যে ১৯৯৪ সালের একটি রিপোর্ট বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কাজাখস্তানের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় একজন মার্কিন পাইলট ও তিনজন আমেরিকান একটি ইউএফও দেখতে পান। বস্তুটি প্রচণ্ড গতিতে হঠাৎ হঠাৎ ৯০ ডিগ্রি কোণে মোড় নিচ্ছিল এবং অদ্ভুতভাবে স্ক্রুর মতো ঘুরে ঘুরে এগোচ্ছিল।

২০২৩ সালের সামরিক রিপোর্টে সমুদ্রপৃষ্ঠের ঠিক ওপরে একটি রহস্যময় বস্তুকে ঘুরপাক খেতে দেখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের নভোচারী বাজ অলড্রিন মহাকাশে এক উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক রিপোর্টটিও এই নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন ওয়েবসাইট ও ভিডিও

পেন্টাগন একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে যেখানে অবমুক্ত করা এই উপকরণগুলো দেখা যাচ্ছে। সেখানে ২০টিরও বেশি ভিডিও রয়েছে যা সামরিক সেন্সরে ধরা পড়েছে। ২০২২ সালে পূর্ব চীন সাগরের ওপর দিয়ে ফুটবল আকৃতির বস্তু উড়ে যাওয়ার দৃশ্য থেকে শুরু করে ২০২৩ সালে সিরিয়ার আকাশে ঘণ্টায় ৪৮৩ মাইল বেগে ‘বাউন্সি বল’-এর মতো বস্তুর উড়ে যাওয়ার লিখিত বিবরণও রয়েছে এখানে।

১৯৪০-এর দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সামরিক নথিপত্র থাকলেও, পেন্টাগন এখনো ভিনগ্রহের প্রাণীর (এলিয়েন) দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি। ২০২৪ সালের একটি রিপোর্টে তারা সরাসরি এলিয়েন সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছিল।

বাড়ছে স্বচ্ছতার দাবি

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনেকেই এই বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা চাইছেন। রিপাবলিকান প্রতিনিধি আনা পলিনা লুনা আরও ৪৬টি ভিডিও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, টিম বার্চেট এই উদ্যোগের জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। ‘সোল ফাউন্ডেশন’ নামক একটি গবেষণা সংস্থাও দাবি তুলেছে যেন সরকার তাদের কাছে থাকা সব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়।

ইউএফও নিয়ে মানুষের কৌতূহল যত বাড়ছে, মার্কিন প্রশাসনের তথ্য প্রকাশের এই প্রবণতা ততটাই ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আকাশের এই রহস্য পুরোপুরি উন্মোচনের পথ এখনো অনেক দীর্ঘ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর