আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে রোববার আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠন করা হলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে।
মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিরা উসকানি, প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তার মাধ্যমে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৬ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালে ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণে কয়েকজন আসামির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাপসের ফোনালাপের বিষয়ও শুনানিতে উত্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে। আইনজীবীদের একজন সিফাত মাহমুদ শুভ যুক্তি দেন যে ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না এবং এ ধরনের অভিযোগ বিচারের জন্য পৃথক আইন রয়েছে।
এই মামলায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।


