রাশিয়ায় যুদ্ধে যোগ দিয়ে বাংলাদেশি নিহত

রাশিয়ায় যুদ্ধে যোগ দিয়ে বাংলাদেশি নিহত
রিয়াদ রশিদ। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রিয়াদ রশিদ (২৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা। রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে তিনি সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানায় যায়, রিয়াদ রশিদের বাবার নাম আবদুর রশিদ। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নিহত রিয়াদ রশিদের বন্ধু লিমন দত্ত ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তার পরিবারকে এ মৃত্যুর সংবাদ জানান। লিমন দত্ত রাশিয়াতে রিয়াদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে চাকরি করেন। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়।

লিমন দত্ত জানান, গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলা হয়। এতে দুজন বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সেনা নিহত হন। আহত হন তিনজন।

হামলায় লিমন দত্ত নিজেও একটি পা হারিয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শুক্রবারই তিনি বন্ধু রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিক বিষয়টি তার পরিবারকে জানান।

রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে দায়িত্বরত রিয়াদ রশিদ। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

রিয়াদ রশিদের চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ রিয়াদ রশিদ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে তিনি রাশিয়ায় যান। গত এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে রিয়াদ রশিদসহ আরও অনেক বাংলাদেশি যোগ দেন। সেনাবাহিনীতে রিয়াদ রশিদের ব্যাচ নম্বর- ৭৩৫।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও জানান, রিয়াদ রশিদের সঙ্গে পরিবারের শেষ কথা হয় ২৮ এপ্রিল। আর ম্যাসেঞ্জারে তাকে অনলাইনে দেখা গেছে ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত।

জহিরুল আবগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘রিয়াদ রশিদের মরদেহের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় কী করণীয় কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’

নিহতের বাবা জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা ছেলে আমাকে জানায়নি। জানলে আমি আমার ছেলেকে কখনোই যোগ দিতে দিতাম না। ছেলের মরদেহের সন্ধান পাচ্ছি না। ড্রোন হামলায় নাকি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাবা হিসেবে এ কষ্ট কেমন করে সহ্য করব?’

জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ‘রিয়াদ রশিদ খুবই ভাল ছেলে। সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ঘটনাটি জানার পর তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারে শোকের মাতম চলছে।’

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. এমরানুল কবির বলেন, ‘পুলিশ নিহত রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর