গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাকের এক মাঠ কর্মী লাঠি দিয়ে এক নারী গ্রাহকের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নারী বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সাদুল্লাপুরে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সুপদ হালদার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। এর আগে বুধবার দুপুরে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ধাপেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত গ্রাহক লাকী বেগম উপজেলার পালানপাড়া গ্রামের মিন্টু মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত এনজিও কর্মীর নাম ছালমা বেগম। তিনি ব্র্যাকের ধাপেরহাট শাখায় মাঠ সংগঠক হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্র্যাকের ধাপেরহাট শাখা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন লাকী বেগম। প্রায় দেড় বছর পরেও কিছু বকেয়া থাকায় বুধবার বেলা ১১টার দিকে ব্র্যাক অফিসের সামনে লাকী বেগমের কাছে কিস্তির টাকা দাবি করেন মাঠ সংগঠক ছালমা বেগম। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ব্র্যাক অফিসের ভেতরে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে লাকী বেগম বাড়ি চলে যান।
পরবর্তীতে স্বামীকে নিয়ে আবার বাজারে এলে দ্বিতীয় দফায় বিবাদ শুরু হয়। এ সময় ছালমা বেগম পড়ে থাকা একটি লাঠি দিয়ে লাকী বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত লাকী বেগমের স্বামী মিন্টু মিয়া বলেন, ব্র্যাকের ঋণের প্রায় সব টাকাই পরিশোধ করা হয়েছে, মাত্র ১৫০০ টাকা বাকি ছিল। সেই সামান্য টাকার জন্যই তার স্ত্রীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ছালমা বেগম, লাঠি দিয়ে আঘাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, দেড় বছর ধরে তিন হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা চাইতে গেলে গ্রাহক তাকে গালিগালাজ করেন এবং পরে সদস্যের স্বামী তাকে মারধর করেন। সেই রাগে এক পর্যায়ে তিনি আঘাত করেন।
ব্র্যাকের ধাপেরহাট শাখা ব্যবস্থাপক আজহারুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী (ক্ষুদ্রঋণ) মোশাররফ হোসেন বলেন, টাকা না পেয়ে কোনো সদস্যের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া মোটেও কাম্য নয়, এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। ব্র্যাক যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী এবং যে অপরাধ করবে সে শাস্তি পাবে।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সুপদ হালদার বলেন, এবিষয়ে উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


