বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অভ স্টেটের ট্রাভেল সাইটের বিবৃতি অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার দিন দিন বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অর্থাৎ, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন- এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসী ভিসা প্রদান বন্ধ থাকবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটক, শিক্ষার্থীসহ অন্য অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ, ব্যবসায়িক উদ্দেশে বা পড়াশোনার জন্য ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। ওয়েবসাইটে সবশেষ হালনাগাদ তথ্যে গত ২ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
বাংলাদেশের পাশাপাশি এই স্থগিতাদেশের তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে এবং তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।


