আরও সাত দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে ওই সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো- সিরিয়া, লাওস ও সিয়েরা লিওনে, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার ও দক্ষিণ সুদান।
লাওস ও সিয়েরা লিওন এর আগে কেবল আংশিক বিধিনিষেধের আওতায় ছিল। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথি বহনকারীরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, বর্ধিত তালিকায় আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও ১৫টি নতুন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশগুলো হলো- অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, কোট দিভোয়ার, ডোমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, টোঙ্গা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৯ থেকে ৩৯ করা হয়েছে। এই সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের মঙ্গলবারের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৩৯টি দেশ হলো- আফগানিস্তান, মিয়ানমার (বার্মা), চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, কোট দিভোয়ার, ডোমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, টোঙ্গা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরইমধ্যে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে সই করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা হুমকি থেকে দেশকে রক্ষা করতে ‘স্ক্রিনিং, ভেটিং ও তথ্য আদান–প্রদানে প্রমাণিত, ধারাবাহিক ও গুরুতর ঘাটতি রয়েছে- এমন দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ ও জোরদার করা হয়েছে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন যখন তিনি গত নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর সিরিয়া পুনর্গঠনে সব ধরনের সহায়তার অঙ্গীকার করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট আল-শারা একজন সাবেক আল-কায়েদা কমান্ডার। সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরের আগ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী’ হিসেবে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ছিলেন।
আল-শারার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর বিদ্রোহে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৪ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটার পর তাকে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে শনিবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেন। এর পেছনে কারণ হিসেবে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, সম্প্রতি সিরিয়ায় এক সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেট সদস্যর আক্রমণে দুইজন মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। পরে হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল “ভয়াবহ”। আমাদের দেশের জন্য হুমকি তৈরি করে এমন প্রত্যককে প্রতিহত করা হবে।’
এ ছাড়া হোয়াইট হাউস সিরিয়ান নাগরিকদের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বসবাসের উচ্চ হারকে নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিরিয়া দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে, তবুও সিরিয়ার কাছে এখনো পাসপোর্ট বা নাগরিক নথি ইস্যুর জন্য পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই এবং উপযুক্ত স্ক্রিনিং ও ভেটিং ব্যবস্থাও অনুপস্থিত।’


