ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন (ইইউ ইওএম) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে যাচ্ছে।
মিশনের একটি অগ্রিম দল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কাজ শুরু করে এবং রোববার ৫৬ জন পর্যবেক্ষক ঢাকায় পৌঁছেছেন। ইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস জানান, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রায় ২০০ জন স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং এর প্রায় দুই মাস পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
ইভার্স ইজাবস গত সপ্তাহে ঢাকায় এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, তরুণ প্রতিনিধিসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। প্রাথমিক মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঐতিহাসিক নির্বাচনকে সমর্থন দিতেই এখানে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে দেশটি একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম–এই উপলব্ধির ভিত্তিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনি দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, তারা সহিংসতা ছাড়াই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সত্যিই আন্তরিক।’
ইভার্স ইজাবস উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়নি, ফলে বহু গণতান্ত্রিক চর্চা নতুন করে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশন ইইউ পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে স্বচ্ছ ও উন্মুক্তভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘তাদের এই স্বচ্ছতা ও সহযোগিতাকে আমরা মূল্য দিই।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইইউ মিশনের প্রধান মনোযোগ থাকবে সংসদ নির্বাচনের ওপর। কারণ, গণভোট তাদের আনুষ্ঠানিক ম্যান্ডেটের আওতায় পড়ে না। তবে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরস্পর সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ভোটাররা গণভোট বিষয়ে কতটা সচেতন–সেদিকেও পর্যবেক্ষকরা নজর রাখবেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতন–এটাই আমার প্রাথমিক ধারণা।’
তিনি বলেন, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতা অনেক দেশেই উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। সংখ্যালঘুদের ভীতি প্রদর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় বলে জানান প্রধান পর্যবেক্ষক।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব সময় লিঙ্গসমতা এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণের পক্ষে। সব ৬৪ জেলায় মোতায়েন পর্যবেক্ষকদের এ ধরনের যেকোনো ঘটনার প্রতি বিশেষ নজর রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’


