দুই বছর আগে ঢাকা কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে চুরি গিয়েছিল ৫৫ কেজি স্বর্ণ। সেই স্বর্ণ উদ্ধার করা না গেলেও, জানা গেল এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত সংস্থাটির আট কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্তে এই আট জনের নামও উঠে এসেছে। এরা হলেন-গুদাম কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম সাহেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, আকরাম শেখ ও মো. মাসুম রানা এবং কাস্টমস সিপাহী মো. রেজাউল করিম, মোহাম্মদ মজাম্মেল হোসেন, মো. আফজাল হোসেন ও মো. নিয়ামত হাওলাদার।
বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরের যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ হওয়া এসব স্বর্ণ সংরক্ষিত ছিল ঢাকা কাস্টমস হাউজে। ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বরে দেখা যায়, সংরক্ষিত ৫৫ কেজি স্বর্ণ চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পরদিন ঢাকা শুল্ক বিভাগের তৎকালীন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
সেসময় শুল্ক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, চুরি হওয়া এসব স্বর্ণ ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময় উদ্ধার করা হয়েছিল।
দুই বছর ধরে সেই ঘটনার তদন্ত শেষে এনবিআরের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন শনাক্ত হওয়া আট জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশ না করলেও টাইমস অব বাংলাদেশ ওই অপ্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুলিপি দেখেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বর্ণগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস ট্রানজিট গুদাম থেকে চুরি হয়। গুদামের রেজিস্টারে স্বর্ণের হিসাব থাকলেও সেগুলো কখনো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। ২০১৭ সালের পর ২০২০ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো স্বর্ণ জমা নেয়নি। ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার স্বর্ণ জমা নিতে শুরু করে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ধীরে ধীরে সময় নিয়ে গুদাম থেকে এসব স্বর্ণ সরানো হয়। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর গুদামের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি ছোট আলমারির দরজা ভাঙা অবস্থায় এবং কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
চুরি আড়াল করতে অভিযুক্তরা ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ কিনে গুদামে রাখে এবং একটি ডাকাতির নাটক সাজায়।
চুরির ঘটনায় জড়িত চারজন সিপাহী এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তবে গুদাম কর্মকর্তারা এখনো চাকরিতে বহাল। বুধবার এনবিআর তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা অনুমোদন দিয়েছে।
এনবিআরের সদস্য ও তদন্ত কমিটির প্রধান ফারজানা আফরিনের সই করা ১৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে আরও ছিলেন-এনবিআর সদস্য ফারজানা আফরোজ, কমিশনার তাসমিনা হোসেন, কমিশনার মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার মো. মসিউর রহমান ও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) উপপরিচালক মোহাম্মদ মেহরাজ-উল-আলম সম্রাট।
এ বিষয়ে টাইমস অব বাংলাদেশ কথা বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’


