একজনের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম রাখার বিধান তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা যায়নি। নানা জটিলতা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এখন পরের ধাপ অনুসরণ করে অতিরিক্ত সিম বন্ধের দিকে এগোচ্ছে।
বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে মোবাইল অপারেটরগুলোকে অতিরিক্ত সিমগুলোর তালিকা জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন তালিকা অনুমোদন দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে জুলাই মাসে বিটিআরসি জানায়, যাদের নামে ১০টির বেশি সিম আছে তাদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করতে হবে। ২৮ জুলাই থেকে কেউ ১১তম সিম কিনতে পারছেন না।
ঘোষণার পর প্রায় ৮০ লাখ অতিরিক্ত সিমের সংখ্যা কমে ৫০ লাখে নেমে এসেছে। অনেক ব্যবহারকারী নিজেরাই সিম স্থানান্তর বা বন্ধ করেছেন।
বিটিআরসি সূত্র জানায়, জুলাইয়ে প্রায় ২৬ লাখ গ্রাহকের নামে অতিরিক্ত সিম ছিল, যা এখন ১০ থেকে ১৫ লাখে নেমে এসেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একজনের কোন সিমগুলোকে ‘অতিরিক্ত’ ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা হবে।
বিটিআরসি সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘২২ ডিসেম্বরের মধ্যে অপারেটরদের প্রস্তাব দিতে বলা হবে কোন কোন সিম বন্ধ করা যায়। একজনের মোট সিমের কয়টি কোন অপারেটরের সে অনুপাতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে কোন অপারেটর কতগুলো সিম বন্ধ করবে।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘যদি কেউ গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক মিলিয়ে ১৫টি সিম রাখেন, তবে ৫টি বন্ধ করতে হবে। কোন অপারেটরের কত সিম বন্ধ হবে, সেটি অনুপাতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে অপারেটররাই।’
অনুপাতে অপারেটরের ভাগে বন্ধ করার মত সিমের সংখ্যা যদি ভগ্নাংশ হয় তাহলে সেক্ষেত্রে পূর্ণ সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। একজন গ্রাহকের মালিকানায় যে অপারেটরের সিম বেশি, ভগ্নাংশ থেকে পূর্ণ সংখ্যায় পৌঁছাতে সে অপারেটর কে ছাড় দিতে হবে।
অন্যদিকে কোনো গ্রাহক কোনো অপারেটরের একটি সিম ব্যবহার করলে সেটি জোর করে বন্ধ করা হবে না।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত সিমগুলো সক্রিয়ই থাকবে।
একজনের সব সিম যদি একই অপারেটরের হয়, তবে সবচেয়ে কম ব্যবহৃত সিমগুলো বন্ধের তালিকায় আসবে।
বন্ধ হওয়া সিম ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে পারবে না অপারেটর। এ সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারী চাইলে নিজের অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ করে বন্ধ হওয়া নম্বর পুনরায় চালু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির উপপরিচালক মোহাম্মদ ফারহান আলম।
রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধেই একজনের সিম সংখ্যায় সীমা আনা হয়েছে। কারণ, প্রতারক ও অপরাধীরা একাধিক সিম ব্যবহার করে ট্র্যাকিং এড়ায়।’
তিনি আরও জানান, সরকার ও বিটিআরসি আগামী বছর থেকে সিম ব্যবহারের সীমা আরও কমানোর বিষয়ে আলোচনা করছে। নতুন বিধান কার্যকর হলে একজন সর্বোচ্চ ৫টি সিম ব্যবহার করতে পারবেন।


