চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক কোর্ট হিলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘জিরো পয়েন্ট’ সংস্কার শেষে নতুন রূপে উন্মুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শনিবার সংস্কারকৃত স্থাপনাটির উদ্বোধন করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যই তার সংস্কৃতির শেকড় নির্ধারণ করে। আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস কেমন এবং কতটা প্রাচীন-এসবই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে বোঝা যায়। একই সঙ্গে এটি আগামী প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।’
জেলা প্রশাসক জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর কোর্ট হিল এলাকায় পরিদর্শনের সময় জিরো পয়েন্টের জীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থা তার নজরে আসে।
পরে এর ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু চিহ্নিত করার জন্য এখানে একটি স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে ‘জিরো পয়েন্ট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এটি হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে দেখা যায়, ১৮৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় দুটি জেটির মাধ্যমে বন্দরের যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকেই এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে জিরো পয়েন্টের বর্তমান কাঠামোটি প্রথম নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সীমিত পরিসরে কিছু সংস্কার করা হলেও স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নান্দনিকতা বজায় রাখতে বড় পরিসরের সংস্কারের প্রয়োজন ছিল।
জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জিরো পয়েন্টের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এর সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেন।
সংস্কারের পর নতুন নান্দনিক অবয়বে জিরো পয়েন্ট এখন চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নগর সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে নতুন মাত্রা পেয়েছে।


