ঢাকার আশুলিয়ার একটি বাসায় আগুনে পুড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতাসহ চারজন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রনি (২৬)। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি মারা যান।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, সাইফুলের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের গাড়িচালক মো. হাসিনুর (২৬) এবং দুই ভাই রায়হান ও রাহাত।
দগ্ধ সাইফুলের ভাই মাসুদ রানা ও বন্ধুরা জানান, সাইফুল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ঢাকা জেলা উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতেন।
মাসুদ রানা জানান, আশুলিয়ার ইসলামনগর ৬ নম্বর গলির একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন সাইফুলের বন্ধু রায়হান ও তার ভাই রাহাত। ওই দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ মেটাতে সেখানে গিয়েছিলেন সাইফুল।
ঘটনাস্থলে এক পর্যায়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া চরমে পৌঁছালে রায়হান ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মুহূর্তে দাউদাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং চারজন আগুনে পুড়ে গুরুতর দগ্ধ হন।
তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরে মধ্যরাতে সাইফুল ও হাসিনুরকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে দুই ভাই রায়হান ও রাহাতকে মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।


