বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ৩৩ জন কর্মকর্তাকে একযোগে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের অবসরে পাঠানো হয়। কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১৭ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং দুইজন পুলিশ সুপার রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়। এই আইন অনুযায়ী, চাকরির বয়সসীমা ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার চাইলে কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে।
এসব পুলিশ কর্মকর্তাকে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে পদায়ন করে রাখা হয়েছিল।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সেই নির্বাচনে পুলিশের সহযোগিতায় আগের রাতেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরার অভিযোগ ওঠে।
২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করার পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা অংশ নিলেও ভোটের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনও বর্জন করে তৎকালীন বিরোধীরা।
ওই বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডিসি ও এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। সেই নির্বাচনে ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ২২ জনকে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অবসরে পাঠায় সরকার। ২০১৮ সালের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একযোগে এতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরের পাঠানোর ঘটনা এটাই প্রথম বলে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন।
তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন দুজন— ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং ওএসডি ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম।
অবসরে পাঠানো অন্য ১২ জন ডিআইজি হলেন মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, শাহ মিজান শাফিউর রহমান, এসএম মোস্তাক আহমেদ খান, জিহাদুল কবির, মঈনুল হক, মো. ইলিয়াছ শরীফ, শ্যামল কুমার নাথ, মো. জাকির হোসেন খান, মো. শাহ আবিদ হোসেন, মো. জামিল হাসান, মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. মনিরুজ্জামান।
অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা হলেন মো. বরকতুল্লাহ খান, টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন খান, মোহা. মনিরুজ্জামান, মো. মেহেদুল করিম, মো. আলমগীর কবীর, মো. রশীদুল হাসান, সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, মো. নিজামুল হক মোল্যা, এস এম এমরান হোসেন, মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, শামসুন্নাহার, সাইফুল্লাহ আল মামুন, খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, মো. সাজিদ হোসেন, শেখ রফিকুল ইসলাম ও মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।
অবসরে পাঠানো দুই পুলিশ সুপার হলেন মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন ও আব্দুল্লাহ আরেফ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী তাদের অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন। এই আদেশের অনুলিপি ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।


