দেশের ২৮ জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সোমবার পরিচালিত এ অভিযানে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা ও অনিরাপদ ড্রামে সংরক্ষিত প্রায় ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল ধ্বংস করা হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরসহ ২৮ জেলায় ৩৬টি দল অভিযান চালায়। পাইকারি ও খুচরা বাজার, ফলের আড়ত, ভোজ্যতেলের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কেন্দ্রে তদারকি করা হয়।
কুমিল্লায় রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানোয় জরিমানা
কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়ার নেতৃত্বে আদর্শ সদর উপজেলার স্টেশন রোড ও রেইসকোর্স এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অপরিপক্ব কলা ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানোর দায়ে ‘হালিমের কলার আড়ত’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলাগুলো জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডাব ও কলার আড়তে অভিযান চালান ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। সেখানে কলা পাকানোর রাসায়নিক সংরক্ষণের দায়ে একটি আড়তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
অনিরাপদ ড্রামে সয়াবিন তেল, জরিমানা ২ লাখ ১০ হাজার টাকা
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও কৃষি মার্কেটে খোলা ভোজ্যতেলের দোকান তদারকির সময় অনিরাপদ ড্রামে তেল সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় লেবেল না থাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। এ ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর মধ্যে মেসার্স সততা স্টোরকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ইউরিয়া ফরমালডিহাইডের ড্রামে রাখা প্রায় ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়। একই অভিযানে হেলাল জেনারেল স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
রাজধানীতে ডাবের বাজারে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে সাদেক খান কৃষি মার্কেটের ডাবের আড়ত এবং কলেজ গেট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনের দোকানগুলোতে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় ডাবের সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয়মূল্য, রসিদ সংরক্ষণ ও মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। রসিদ সংরক্ষণ না করা, ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অতিরিক্ত দাম ও ভেজাল ঠেকাতে নজরদারি
দেশব্যাপী অভিযানে পণ্যের অতিরিক্ত দাম আদায়, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।
ব্যবসায়ীদের ফল ও খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ দ্রব্য ব্যবহার না করা, যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে সতর্ক করা হয়।
অভিযান চলাকালে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
অভিযোগ জানাতে হটলাইন ১৬১২১
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার আহ্বান জানিয়েছে। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং ওজন যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেনাকাটার সময় বিক্রেতার কাছ থেকে রসিদ সংগ্রহের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পণ্য কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়, ভেজাল বা প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ন্যায্যমূল্যে পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে দেশব্যাপী বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে।


