পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ অভিহিত করে, এর সংশোধন চায় বড়ুয়া সম্প্রদায়।
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যার অনুপাতে সব নিয়োগ ও শিক্ষাবৃত্তির দাবি জানিয়েছে তারা। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটি, মন্ত্রণালয়, পৌরসভা ও পার্বত্য ২৬টি উপজেলার প্রশাসনে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তিও চান তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।
তাদের অভিযোগ, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২৭ বছর ধরে এসব কমিটিতে বড়ুয়া সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই বৈষম্য নিরসনে একটি কমিশন গঠনেরও আহ্বান জানান তারা।
সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদল বরণ বড়ুয়া বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদকে যথাক্রমে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করে চেয়ারম্যান পদটি সব জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।’
পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে শুধু চাকমা-মারমা-ত্রিপুরা তিনটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উপকারভোগী হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল বড়ুয়া মিলন।
বড়ুয়া, তনচঙ্গা, অহমিয়া, সাঁওতাল, গুর্খা, কুকি,পাংখোয়া, চাক, খুমি, খিয়াং, ম্রো জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
নির্মল বড়ুয়া আরও বলেন, ‘২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনায় ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা ছকে ও খানায় বৌদ্ধ বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচিতি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বাঙালিদের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৌদ্ধ বড়ুয়াদের পরিচিতি জনশুমারিতে পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ভদন্ত আদিতানন্দ মহাথোরো, কেন্দ্রীয় সংগঠক ত্রিদিব বড়ুয়া টিপু, শিক্ষক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়াসহ তিন পার্বত্য জেলার সংগঠকরা।


